নাসিরনগরে মৃত ব্যক্তি খুন হয়েছে মর্মে মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে সাংবাদিক সহ ৪৯ জনের নামে খুনের মামলার রহস্য উদঘাটন

সিলেট ব্যুরো প্রধানঃ মাসুদ লস্কর
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২
  • ২৭৫ Time View

হয়েছে শ্রীঘর গ্রাম থেকে প্রায় আড়াই কিঃমিঃ দুরে, লঙ্গন নদীর তীরে,আর নায়েব উল্লার মৃত্য হয়েছে গ্রামের ভেতরে সাচ্চার পাড় মসজিদের বারান্দায় মাথা ঘুরে পরে।তাহলে নায়েব উল্লা খুন হয় কি করে? এমন প্রশ্ন সাধারণ জনগনের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে মৃত ব্যাক্তি খুন হয়েছে বলে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে একটি কুচক্রীমহল বাণিজ্যিক পায়দা হাসিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটানো ও মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার হীন উদ্দেশ্যে এশিয়ান টেলিভিশন ও দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার নাসিরনগর উপজেলা প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম নাসিরনগর উপজেলা শাখার সভাপতি নিরপরাধ সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নান,তার দুই ভাই মোঃ ফরিদ মিয়া ও সাফু মিয়া,গ্রামের গণ্যমান্য নিরপরাধী বেশ কিছু ব্যাক্তিবর্গ সহ ৪৯ জন গংদের নামে মিথ্যা খুনের মামলা দিয়ে হয়রানী করার রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের চট্রগ্রাম বিভাগের সি,আই,ডির সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের চিকিৎসক।সি,আই,ডির ভিসারার রিপোর্টে বলা হয়েছে নায়েব উল্লাহর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে,আর প্যাথলজি বিভাগের আরেক রিপোর্টে বলা হয়েছে নিহত নায়েব উল্লাহর হার্টে দুটি ব্লক রয়েছে।তাছাড়াও ময়না তদন্তের প্রতিবেন ও সুরতহাল রিপোর্টেও এ সমস্ত তথ্য ফুটে উঠেছে।

মামলার বাদী নিহত নায়েব উল্লার ভাই সাজু মিয়া তার মামলার আর্জিতে উল্লেখ করেছে আসামী জালাল মিয়া তার হাতে থাকা ইট দিয়ে নিহত নায়েব উল্লাহর অন্ডকোষে আঘাত করলে নায়েব উল্লাহর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে ঝগড়ার ঘটনাস্থল লঙ্গণ নদীর পাড় হলেও নায়েব উল্লাহর মৃত্যু হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩ কিঃ মিঃ দুরে শ্রীঘর গ্রামের ভেতরে সাচ্চারপাড় মসজিদের বরান্দায়।
স্থানীয়রা অনেকেই আবার বলছে হার্টএটাক জনিত কারনে নায়েব উল্লাহর মৃত্যু হতে পারে।

নায়েব উল্লাহর মৃত্যুর পর একটি কুচক্রী মহল নায়েব উল্লার লাশকে খুন হয়েছে বলে মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে সাংবাদিক সহ ৪৯ জন গংদের নামে নাসিরনগর থানার মামলানং-হত্যা মামলা নং ১৯ জি,আর-৬৪ তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০২২ একটি মিথ্যা ও কাল্পনিক খুনের মামলা দায়ের করে।

নায়েব উল্লার প্রতিবেশী শ্রীঘর সাচ্চার পাড়ের দুলা মিয়ার মেয়ে মাসেরা বেগম জানায়,ঘটনার সময় মাসেরা বেগম তার মাও বোনকে নিয়ে মসজিদের পাশে ধানের খড় শুকাচ্ছিলেন।এ সময় নিহত নায়েব উল্লাহ মানুষকে অশালিন ভাষায় গালি গালাজ করতে করতে মসজিদে গিয়ে ইমামকে খোঁজাখোঁজি শুরু করে।পরে ইমাম সাহেবকে না পেয়ে নিজেই মসজিদের মাইক হাতে নিয়ে শ্রীঘর গ্রামবাসীকে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে নদীর পাড়ে ঝগড়ায় অংশ নেয়ার জন্য প্রচন্ড গরমের ভেতর স্বজোরে চিৎকার চেঁচামেচি করতে তাকে।এক সময় চিৎকার করতে করতে নায়েব উল্লাহ হঠাৎ মাথা ঘুরে মসজিদের বারান্দায় পরে ছটপট করতে শুরু করে।এ সময় মাসেরা বেগম,তার মা বোন ও প্রতিবেশী আরাে কয়েকজন লোকজন দৌড়ে এসে নায়েব উল্লার মাথায় পানি দিয়ে নাসিরনগর হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য রওয়ানা দিলে হাসপাতালে যাবার আগে রাস্তাই নায়েব উল্লাহর মৃত্যু হয়।মাসেরা বেগম আরো বলেন এঘটনার আরো অনেক স্বাক্ষী রয়েছে।কিন্তু নায়েব উল্লার আত্মীয় স্বজনের ভয়ে কেউ মুখ খোলতে সাহস পাচ্ছে না।

জানা গেছে গত ২৬ এপ্রিল ২০২২ রোজ মঙ্গলবার বেলা অনুমান আড়াই ঘটিকার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার লঙ্গন নদীর পাড়ে আশুরাইল গ্রামের পশ্চিম পাড়ের মৃত রাজু মিয়ার ছেলে মোঃ মারাজ মিয়া @সারাজ মিয়ার কাটা ধান ট্রাকে করে বাড়িতে নিয়ে দেয়ার জন্য শ্রীঘর গ্রামের সাচ্চার পাড়ের ট্রাক মালিক তাজুল ইসলামের ছেলে জুনাইদ মিয়ার সাথে কথা বার্তা হয়।জুনাইদ প্রতি ট্রাকের ভাড়া বাবদ ৬ শ টাকা আর মারাজ @সারাজ মিয়া প্রতিট্রাক কাটা ধান ৫০০ শত টাকা দিবে বলে জানায়।এ নিয়ে দুই জনের মাঝে দর কষাকষির এক পর্যায়ে জুনাইদ মারাজের ধান ট্রাকে না তুলে অন্যের ধান ট্রাকে ভর্তে শুরু করে।এ নিয়ে জুনাইদ ও মারাজ মিয়ার মাঝে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পাশে তাকা আশুরাইল গ্রামের মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে জালাল মিয়া দৌড়ে এসে মারাজ মিয়ার পক্ষ নেয়।এই নিয়ে ৩ জনের মাঝের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নদীর পাড়ে থাকা দুই গ্রামের লোকজনের মাঝে সংর্ঘষ বাধে। প্রায় আধা ঘন্টা ব্যাপী সংর্ঘষে দুই গ্রামের প্রায় ২০ জন আহত হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নান ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিঃমিঃ দুরে নাসিরনগর সদরে থানার সামনে রাজিব কম্পিউারে বসে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ঈদ উপলক্ষে গরীবদের মাঝে ঘর ও ঘরের চাবি বিতরণের সংবাদ লেখায় নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।এ সময় আশুরাইল গ্রামের বাছির মিয়ার ছেলে শাহীন মিয়া মোবাইল ফোনে সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নানকে আশুরাইল শ্রীঘর দুই গ্রামের লোকজনের মাঝে ঝগড়ার খবর দেয়।শাহীনের কাছ থেকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে সাংবাদিক আব্দুল হান্নান তাৎক্ষনিক দুই গ্রামের সংঘর্ষের খবরটি তার মোবাইল ফোনে নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ সরকারের ব্যবহৃত সরকারী মোবাইল নাম্ভারে জানান।

সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নানের কাছ থেকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ওসি সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা চালায়।এ সময় সাংবাদিক আব্দুল হান্নানও পুলিশ ফোর্সের সাথে সাথে মিহির কুমার দেবকে নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক দুর থেকে তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ও মিহির কুমার দেব তার নিজের মোবাইল ফোন থেকে দুই গ্রামের লোকজনেন ঝগড়ার লাইভ ধারণ করেন।যা পুলিশ প্রশাসনের লোকজন ও দেশবাসী সহ সকলে অবগত রয়েছেন।

অপরদিকে গ্রামের ভেতর মসজিদের বারান্দায় নায়েব উল্লা মাথা ঘুরে পরে ছটপট করতে থাকলে মাসেরা বেগম,তার মা,বোন ও প্রতিবেশী আরো লোকজন দৌড়ে গিয়ে নায়েব উল্লার মাথায় পানি দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় পথেই তার মৃত্যু ঘটে।একটি সুত্র বলছে দাড়িয়ে থেকে উপুড় হয়ে পড়ে যাবার কারনে এ সময় নায়েব উল্লাহর নাকের নীচে উপরের ঠোটে সামান্য ফুলা ও ডান পায়ের হাটুর নীচে সামান্য ছেঁড়া আর নাকের মাঝে নখের আছরের সামান্য দাগ দেখা গেছে।কিন্তু অন্য একটি বিশ্বস্থ সুত্র বলছে,একটি কুচক্রি মহল মামলা জেতার জন্য নিজেরাই লাশের গায়ে এ কাজ করে থাকতে পারে।

হাসপাতালে নায়েব উল্লাহর মৃত্যু আর নদীর পাড়ে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক সরাইল নাসিরনগর,আশুগঞ্জে সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আনিছুর রহমান হাসপতাল পরিদর্শনে আসেন।এ সময় ওসি,সার্কেল, সাংবাদিক আব্দুল হান্নান,ডাক্তারকে সাথে নিয়ে নিহতের শরীরর বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা নিরিক্ষা করেন এবং অডিও ভিডিও ধারণ করেন।তখন নিহত নায়েব উল্লার শরীরের কোথাও কোনরূপ আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি ওসি,সার্কেল,সাংবাদিক,ডাক্তার সহ উপস্থিত লোকজন।

এ সময় ডাক্তারের কাছে নিহত নায়েব উল্লার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে,কর্তব্যরত চিকিৎসক মোঃ আশিক মর্তুজা সীমান্ত বলেন,প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে হার্টএটাকে নায়েব উল্লা মারা গেছে।

হাসপাতালের ভেতরে এক ভিডিওতে দেখা গেছে নিহত নায়েব উল্লার লাশের পাশে দাড়িয়ে থেকে ওসি,সার্কেল,মামলার আইও,ডাক্তার,সাংবাদিক হান্নান সহ আরো অনেক লোকজন মিলে নিহত নায়েব উল্লার শরীরের বিভিন্ন অংশ প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন না পেয়ে সার্কেল তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে পুলিশের উর্ধতন এক কর্মকর্তাকে বলছেন স্যার নিহতের শরীরের কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

পরদিন এলাকার একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে মৃত নায়েব উল্লার ভাই সাজু মিয়া বাদী হয়ে সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নান ও আশুরাইল গ্রামের অনেক নিরপরাধী লোক সহ ৪৯ জন অজ্ঞাত নামা আরো বেশ কয়েক জনকে আসামী করে নাসিরনগর থানায় একটি মিথ্যা খুনের মামলা নং ১৯ ও জি,আর ৬৪ দায়ের করে।ওই মিথ্যা খুনের মামলা সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নানকে ৫ নং আসামী করা হয়।সাংবাদিক ছাড়াও তার পরিবারের বড় ভাই মোঃ ফরিদ মিয়াকে ৬ নং তার ছোট ভাই সাফু মিয়াকে ১৯ নং আসামী করা হয়।

এ বিষয়ে মামলার বাদী মোঃ সাজু মিয়ার সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সাংবাদিক আব্দুল হান্নান ও তার দুই ভাইকে কেন এ মামলায় আসামী করা হলো জানতে চাইলে,বাদী সাজু মিয়া বলেন হান্নান লাইভ করার সময় লাইভে শুধু শ্রীঘরের লোকজনকে দেখিয়েছে আশুরাইলের কোন লোককে দেখায়নি। সে মিথ্যা সংবাদ ও লাইভ প্রচার করেছে,তাছাড়াও হান্নান একজন সাংবাদিক হিসেবে মামলাটি সমাধানের কোন চেষ্টা না করে মারামারি করার অর্ডার দেয়ার কারনে তাকে আসামী করা হয়েছে বলে জানান বাদী সাজু ।সাজু আরো বলেন আমার ভাই মারা গেছে কিভাবে তাকে আসামী করা হয়েছে জানি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন,হান্নান ভাই আমাদের শত্রু নয়,তিনি আমাদের বন্ধু। ঘটনার সময়ে সাংবাদিক হান্নান ভাই আমাদের সাথেই ছিলেন। তিনি ওই দিন আমাদের পুলিশ প্রসাশনের জন্য অনেক উপকার করেছে।হান্নান ভাই খুবই ভাল মনের মানুষ।দুই গ্রামের বা গোষ্টিগত সংঘর্ষের কারনে হান্নান ভাইকে এ মামলা আসামী করা হয়েছে বলেও জানান ওসি হাবিবুল্লাহ সরকার।

জানতে চাইলে সরাইল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, শুধু সাংবাদিক হান্নান ভাই নয়,হান্নান ভাইয়ের মত আরো যারা নির্দোষ,নিরপরাধ কিন্তু এ মামলায় আসামী হয়েছে আমরা তদন্ত পূর্বক প্রত্যেক নির্দোষ ব্যাক্তিকে এ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো বলে জানান এ কর্মকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category