রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা সম্পন্ন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২
  • ৭৩ Time View

 

মাহফুজ আলম, স্টাফ রিপোর্টার ঃ

রাঙামাটি জেলা পুলিশের মাসিক কল্যান ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা সম্পন্ন হয়েছে। ৬ এপ্রিল বুধবার রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার জনাব মীর মোদ্‌দাছ্ছের হোসেনের সভাপতিত্বে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় রাঙ্গামাটি জেলার সকল থানা, ফাঁড়ির ইনচার্জগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের প্রতিটা ইউনিট অংশগ্রহণ করেন। পুলিশ সুপার সমাপনী বক্তব্যে সবাইকে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। আমরা রাঙ্গামাটি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তথা রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের উন্নয়নে একসাথে কাজ করবো। সভায় পুলিশ সুপার মহোদয় সকলের উপর অর্পিত দায়িত্ব কর্মদক্ষতার সহিত দায়িত্ব পালনের জন্য আদেশ প্রদান করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ তহবিল হতে পুলিশ ও নন-পুলিশ সদস্যগনকে এককালীন চিকিৎসা সাহায্য বাবদ মুঞ্জুরীকৃত (১৫০০০০)দেড় লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করেন রাঙ্গামাটি জেলার পুলিশ সুপার মহোদয়। এছাড়াও সভায় মার্চ /২০২২খ্রি. মাসের অভিন্ন মানদন্ডের আলোকে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত করা হয়। জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল নির্বাচিত জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল), রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।
শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হন জনাব কবির হোসেন, কোতয়ালী থানা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।
শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) নির্বাচিত হন জনাব মোহাম্মদ আফজাল হোসেন কোতয়ালী থানা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। শ্রেষ্ঠ এসআই(নিরস্ত্র) নির্বাচিত হন জনাব মোহাম্মদ শাহাবুর আলম, লংগদু থানা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।
শ্রেষ্ঠ এএসআই(নিরস্ত্র) নির্বাচিত হন জনাব সুজন কুমার দে, কোতয়ালী থানা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।
সভায় মার্চ/২০২২ খ্রি. মাসের অভিন্ন মানদন্ডের আলোকে বরকল থানাকে শ্রেষ্ঠ থানা নির্বাচিত করেন
পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন, ও সকল থানার অফিসার ইনচার্জগন উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানমালা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ও নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ঈদ আয়োজন। একাধিক শিল্পীদের অভিযোগ জেনারেল ম্যানেজার পরিবর্তন হলেও এই কেন্দ্রটি ‘যে লাউ সেই কদু’ তেই রয়ে গেছে। প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোমানা শারমিন ও পিএ সুকুমার বিশ্বাস নিয়ন্ত্রিত চক্রটি এখনো সক্রিয়। বাস্তবে টিভি পর্দায় তার প্রমান মিলেছে, ঈদের দিন বিকেল ৫টা ৩০মিনিটে প্রচারিত ছায়াছবির গান নিয়ে দ্বৈত সংগীতের অনুষ্ঠানটি দেখে। সদ্য বিদায়ী জি.এম নিতাই কুমার ভট্টাচার্যের আমলে সিন্ডিকেটভুক্ত ও অভিযুক্ত বিতর্কিত প্রযোজক ইয়াদ আহমেদকে দিয়ে আবারো ছায়াছবির গান নিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের গান নির্বাচন নতুন তালিকাভুক্ত শিল্পী নির্বাচন এবং যন্ত্রীদের পোষাক দেখলে বুঝা যাবেনা এটি আসলে ঈদের অনুষ্ঠান। এত অযত্ন, এত অবহেলা করে, অনুষ্ঠান করার প্রয়োজন কি? সাউন্ড কোয়ালিটি এতোটাই খারাপ ছিল যে, যার বদনাম শিল্পীদের উপর গিয়ে পড়েছে। এছাড়াও নতুন শিল্পীদের পোষাক এবং গেট আপ দেখলে মনে হবে এটি কোনো গোষ্ঠী ভিত্তিক অনুষ্ঠান। শিল্পী নাজমুল আবেদীন বলেন, বয়স হলে, সিনিয়র হলে সম্মান বাড়ে, কিন্তু এই কেন্দ্রে তার বিপরীত। বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক। হয়তো প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে, তাই টিভি কর্তৃপক্ষ ডাকে না।

মুসলমানদের ঈদ উৎসব হলেও ঈদ উপলক্ষে প্রচারিত ছায়াছবির গানের দু’টি অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সনাতনী সম্প্রদায়ের সংগীত পরিচালককে। এটি নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের মাঝে। মুসলমানদের মধ্যে এত সুরকার ও সংগীত পরিচালক থাকতে কেনইবা সনাতন ধর্মের লোক দিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করলেন। আরো অভিযোগ রয়েছে মুসলমান অনেক শিল্পী ঈদ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের সুযোগ পাননি তাদের মধ্যে রয়েছে নাজমুল আবেদীন চৌধুরী, মিয়া মোঃ বদরুদ্দিন, ইফতেখার সাদী, আলম আশরাফ, লুবনা জান্নাত, রুনা পারভীন, পলি শারমিন, ইন্তেখাব আলম মান্না, আখেরুল ইসলাম, আখতার হোসেন কিরন, মুসলিম আলী জনি, শেখ নজরুল ইসলাম মাহমুদ, এস.বি সুমী, দিদারুল ইসলাম, শহীদুর রহমান, বাবুল ইসলাম, হানিফ চৌধুরী, রবিউল হক সহ আরো অনেকেই। এছাড়াও প্রযোজক ইয়াদ আহমেদের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিতি উপস্থাপিকাকে দিয়ে উপস্থাপনা করাতে সিনেমা গানের অনুষ্ঠানকি দর্শকদের নিকট গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠেনি। এর চেয়েও সুন্দর মার্জিত ভালো উপস্থাপিকা টিভিতে রয়েছে। তাহলে বার বার একই মুখ কেন? এর দুর্বলতা কি?

ইলন শফির এর প্রযোজনায় আনন্দ মেলায় গান নিয়েও শিল্পীদের ক্ষোভ বিরাজ করছে। ২টি দেশের গান করার জন্য রোজার মাসে চট্টগ্রাম শহরের এত সুন্দর জায়গা থাকতে শিল্পীদের কাপ্তাই নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কি ছিল, শিল্পীরা এটিকে শাস্তি হিসেবে দেখছেন। টিভি হয়েছে ২৬ বছর হবে। এত কষ্ট শিল্পীরা আগে কখনো করেনি। এই গান করতে গিয়ে শিল্পীরা অনেকেই অসুস্থ হয়েছেন। আবার দিন শেষে শিল্পী সম্মানীর চেকও পাননি। এর জন্য প্রযোজক ও প্রোগ্রাম ম্যানেজারের অনভিজ্ঞতাকে দায়ী করেছেন অংশগ্রহনকারী শিল্পীরা। আবার অনেকে এই ঝামেলা এড়াতে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেননি। চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে দিয়ে আনন্দ মেলা অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করলেও প্রচার প্রচারনার অভাবে অনুষ্ঠানটি উপভোগ্য হয়ে উঠেনি। আনন্দ মেলা অনুষ্ঠানে দু’টি মৌলিক গান রাখা হলে এমন কি দোষ হতো, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজেছেন অনেকেই। স্থানীয় শিল্পীদের অংশ গ্রহন বাড়ানো গেলে অনুষ্ঠানটি আরো প্রাণবন্ত হতো।

গীতিকার দিলীপ ভারতী বলেন, পুরো অনুষ্ঠানমালায় একটি আধুনিক গানের অনুষ্ঠান হয়নি। এতে করে গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালকরা মৌলিক কাজ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আধুনিক গানের প্রতি টিভি কর্তৃপক্ষের এতো উদাসীনতা কেন? সেটি এখনো জানা গেলনা। এছাড়াও এপ্রিল মাসে আধুনিক গানের নিয়মিত সিডিউল ছিলনা অজানা কারণে। তালি জোড়া দিয়ে ধার করা অনুষ্ঠান দিয়ে ঈদ অনুষ্ঠানমালা সাজানোর কোনো কৃতিত্ব নেই। এমনটি অভিযোগ সংস্কৃতি কর্মীদের। প্রতিটি অনুষ্ঠানে একজনকে গ্রন্থনা করার দায়িত্ব দেয়া হলে, একজন করে উপস্থাপক উপস্থাপিকা যুক্ত করলে, মৌলিক গানের অনুষ্ঠানে গীতিকার ও সুরকার এবং সংগীত পরিচালনা যুক্ত করলে প্রচার প্রচারনা যেমন বেশী হতো তেমনি অনুষ্ঠানের মানও বৃদ্ধি পেতো। চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ টিভিতে ইয়াদ আহমেদ ছাড়া প্রযোজক কি আর নেই? ঈদের সব অনুষ্ঠান তাহলে তাকে দিয়ে করানো হবে কেন? প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোমানা শারমিন এর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ইয়াদ আহমেদ এর বিরুদ্ধে নারী ও অর্থ কেলেংকারী সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সদ্য বদলী হওয়া বিতর্কিত জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য সিন্ডিকেট তালিকায় অপকর্মের হোতা হিসেবে ইয়াদ আহমেদ বেশ সমালোচিত। ১৪০ জনেরও বেশি উপস্থাপক উপস্থাপিকা থাকলেও তাদের ডাকা হয়নি। ঘুরে ফিরে কয়েকজন মুখকেই প্রায় দেখা যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালায়। এছাড়াও ঘোষিকারা অভিযোগ করে বলেন, তাদেরকে উপস্থাপনায় রাখা হয়না। ঘোষিকাদেরকে দিয়ে অনুষ্ঠান করালে অনুষ্ঠানের মান বৃদ্ধি পায়। কেননা, উচ্চারন, ড্রেসাপ, গেট আপ এবং সময় সবকিছুর বিষয়ে তারা যথেষ্ট সচেতন। এছাড়াও এই কেন্দ্রে সুশীল সমাজের অনেককে গ্রন্থনাকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলেও তাদেরকে কাজ কি? তালিকাভুক্তির কাগজ নিয়ে ঘরে বসে থাকার জন্যই কি গ্রন্থনাকারী হয়েছে? কোনো অনুষ্ঠানে তাদের যুক্ত করা হয় না এর যুক্তি কতটুকু।

নাট্যকার অভিনেতা মহসিন চৌধুরী বলেন, ঈদ উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ চাইলে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নাটক প্রচার করতে পারতো, কিন্তু সেটা করেনি। ঈদ উপলক্ষে নাটক প্রচার করা হলেও সেটির সাউন্ড কোয়ালিটি অডিও ভিডিও মানসম্মত ছিলনা। ঢাকা থেকে শিল্পী এনে অনুষ্ঠান করা হলেও বঞ্চিত হয়েছে চট্টগ্রামের অনেক প্রতিভাবান শিল্পী। চট্টগ্রামে তালিকাভুক্তি হননি, এমন অনেক মেধাবী সুন্দর সুন্দর ছেলে মেয়ে রয়েছে, যারা কিনা স্যাটেলাইট চ্যানেলে নিয়মিত অনুষ্ঠান করছেন। সব মিলিয়ে জোড়া তালি মার্কা ঈদ অনুষ্ঠান দর্শকদের সাথে এক ধরনের প্রতারনা। চট্টগ্রাম মিডিয়া ফোরামের সভাপতি আলী নেওয়াজ বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রে চট্টগ্রামের শিল্পীরাই বঞ্চিত। তাহলে কেনইবা এত আয়োজন।

চট্টগ্রামের একাধিক শিল্পী, অভিনেতা, গীতিকার, সাংবাদিক, গল্পকার, কবি, নাট্যকার, সংস্কৃতিকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, টিভি’র প্রযোজক ও সহকারীরা সবকিছু করলে এই শহরে আমাদের কাজ কি? এই কেন্দ্রে সব শাখায় তাদের তালিকাভুক্ত করে নেওয়া হোক, তাহলে তারাই আয়োজক, তারাই দর্শক হবে।

প্রশ্নবিদ্ধ বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ঈদ অনুষ্ঠানমালা