পটিয়ায় দুইটি সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, অসন্তোষ হুইপ শামসুল হক চৌধুরী এমপি,

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০
  • ১০৩৮ Time View

পটিয়ায় দুইটি সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, অসন্তোষ হুইপ শামসুল হক চৌধুরী এমপি,

এস টি মানিক পটিয়া প্রতিনিধি:-

পটিয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর প্রায় শত কোটি টাকার কাজ নিম্নমানের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের পটিয়া-বোয়ালখালী-কানুনগোপাড়া সড়ক ১২ কে.মি. এবং উপজেলার পটিয়া-আনোয়ারা-মুরালী সড়ক ১৪ কি.মি. কাজ ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ঠিকাদার তড়িগড়ি করে দুই রাস্তার কাজ নিম্নমানের প্যালাসাইডিং করেছে। যার কারণে রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে ভেঙে যাচ্ছে। (১২ জুলাই) রবিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী সড়ক সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের পটিয়া উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ শাখাওয়াত হোসেন, আবু বশর, শফিকুল ইসলাম বাবুল, স্বপন মিত্র, সাগর দে, নেতা মো. বেলাল উদ্দিন, ওসমান আলমদার, মুজিবুর হক চৌধুরী নবাব, জহির আহমদ, যুবলীগ নেতা এনামূল হক মজুমদার, ছাত্রলীগ নেতা আবু তৈয়ব সোহেল, নাজমুল সাকের সিদ্দিকী, মো. শাকিল প্রমুখ।

হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি অন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার পটিয়াসহ সারা দেশে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু ঠিকাদারের কারণে নিম্নমানের কাজ করার কারণে টেকসই উন্নয়ন হচ্ছে না। পটিয়াতে সওজের দুটি রাস্তায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে রাস্তা ধ্বসে পড়েছে। ভেঙে যাওয়া রাস্তা টেকসই উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা নিতে সওজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সওজের দোহাজারী নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ বলেন, দুটি রাস্তায় সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে দুই পাশে মাটি ধসে ভেঙে গেছে। ভেঙে যাওয়া রাস্তায় শীঘ্রই প্রয়োজনীয় প্যালাসাইডিং ও রিটানিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। হুইপ সামশুল হক চৌধুরী স্যার ইতোমধ্যে একটি ডিও লেটারও দিয়েছেন বলে জানান।এছাড়াও পটিয়া- মুরালী সড়ক নির্মাণ কাজে চরম অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখা যায় রাস্তার দুই পাশে তিন নম্বর ইট দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়াও অনেক জায়গায় খানাখন্দ রয়েছে। পুকুরের রিটানিং

ওয়ালে নিম্নমানের ইটের ব্যাবহার ফলে কিছু কিছু এলাকায় এখন থেকে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এলাকায় লোকজনের দাবি তরিৎ কাজ বুজিয়ে দিয়ে সরকার বিল নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট টিকাদারী প্রতিষ্টান উটে পড়ে লেগেছে। বিষয়টি তারা জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী সুদৃষ্টি কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানমালা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ও নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ঈদ আয়োজন। একাধিক শিল্পীদের অভিযোগ জেনারেল ম্যানেজার পরিবর্তন হলেও এই কেন্দ্রটি ‘যে লাউ সেই কদু’ তেই রয়ে গেছে। প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোমানা শারমিন ও পিএ সুকুমার বিশ্বাস নিয়ন্ত্রিত চক্রটি এখনো সক্রিয়। বাস্তবে টিভি পর্দায় তার প্রমান মিলেছে, ঈদের দিন বিকেল ৫টা ৩০মিনিটে প্রচারিত ছায়াছবির গান নিয়ে দ্বৈত সংগীতের অনুষ্ঠানটি দেখে। সদ্য বিদায়ী জি.এম নিতাই কুমার ভট্টাচার্যের আমলে সিন্ডিকেটভুক্ত ও অভিযুক্ত বিতর্কিত প্রযোজক ইয়াদ আহমেদকে দিয়ে আবারো ছায়াছবির গান নিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের গান নির্বাচন নতুন তালিকাভুক্ত শিল্পী নির্বাচন এবং যন্ত্রীদের পোষাক দেখলে বুঝা যাবেনা এটি আসলে ঈদের অনুষ্ঠান। এত অযত্ন, এত অবহেলা করে, অনুষ্ঠান করার প্রয়োজন কি? সাউন্ড কোয়ালিটি এতোটাই খারাপ ছিল যে, যার বদনাম শিল্পীদের উপর গিয়ে পড়েছে। এছাড়াও নতুন শিল্পীদের পোষাক এবং গেট আপ দেখলে মনে হবে এটি কোনো গোষ্ঠী ভিত্তিক অনুষ্ঠান। শিল্পী নাজমুল আবেদীন বলেন, বয়স হলে, সিনিয়র হলে সম্মান বাড়ে, কিন্তু এই কেন্দ্রে তার বিপরীত। বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক। হয়তো প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে, তাই টিভি কর্তৃপক্ষ ডাকে না।

মুসলমানদের ঈদ উৎসব হলেও ঈদ উপলক্ষে প্রচারিত ছায়াছবির গানের দু’টি অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সনাতনী সম্প্রদায়ের সংগীত পরিচালককে। এটি নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের মাঝে। মুসলমানদের মধ্যে এত সুরকার ও সংগীত পরিচালক থাকতে কেনইবা সনাতন ধর্মের লোক দিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করলেন। আরো অভিযোগ রয়েছে মুসলমান অনেক শিল্পী ঈদ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের সুযোগ পাননি তাদের মধ্যে রয়েছে নাজমুল আবেদীন চৌধুরী, মিয়া মোঃ বদরুদ্দিন, ইফতেখার সাদী, আলম আশরাফ, লুবনা জান্নাত, রুনা পারভীন, পলি শারমিন, ইন্তেখাব আলম মান্না, আখেরুল ইসলাম, আখতার হোসেন কিরন, মুসলিম আলী জনি, শেখ নজরুল ইসলাম মাহমুদ, এস.বি সুমী, দিদারুল ইসলাম, শহীদুর রহমান, বাবুল ইসলাম, হানিফ চৌধুরী, রবিউল হক সহ আরো অনেকেই। এছাড়াও প্রযোজক ইয়াদ আহমেদের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিতি উপস্থাপিকাকে দিয়ে উপস্থাপনা করাতে সিনেমা গানের অনুষ্ঠানকি দর্শকদের নিকট গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠেনি। এর চেয়েও সুন্দর মার্জিত ভালো উপস্থাপিকা টিভিতে রয়েছে। তাহলে বার বার একই মুখ কেন? এর দুর্বলতা কি?

ইলন শফির এর প্রযোজনায় আনন্দ মেলায় গান নিয়েও শিল্পীদের ক্ষোভ বিরাজ করছে। ২টি দেশের গান করার জন্য রোজার মাসে চট্টগ্রাম শহরের এত সুন্দর জায়গা থাকতে শিল্পীদের কাপ্তাই নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কি ছিল, শিল্পীরা এটিকে শাস্তি হিসেবে দেখছেন। টিভি হয়েছে ২৬ বছর হবে। এত কষ্ট শিল্পীরা আগে কখনো করেনি। এই গান করতে গিয়ে শিল্পীরা অনেকেই অসুস্থ হয়েছেন। আবার দিন শেষে শিল্পী সম্মানীর চেকও পাননি। এর জন্য প্রযোজক ও প্রোগ্রাম ম্যানেজারের অনভিজ্ঞতাকে দায়ী করেছেন অংশগ্রহনকারী শিল্পীরা। আবার অনেকে এই ঝামেলা এড়াতে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেননি। চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে দিয়ে আনন্দ মেলা অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করলেও প্রচার প্রচারনার অভাবে অনুষ্ঠানটি উপভোগ্য হয়ে উঠেনি। আনন্দ মেলা অনুষ্ঠানে দু’টি মৌলিক গান রাখা হলে এমন কি দোষ হতো, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজেছেন অনেকেই। স্থানীয় শিল্পীদের অংশ গ্রহন বাড়ানো গেলে অনুষ্ঠানটি আরো প্রাণবন্ত হতো।

গীতিকার দিলীপ ভারতী বলেন, পুরো অনুষ্ঠানমালায় একটি আধুনিক গানের অনুষ্ঠান হয়নি। এতে করে গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালকরা মৌলিক কাজ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আধুনিক গানের প্রতি টিভি কর্তৃপক্ষের এতো উদাসীনতা কেন? সেটি এখনো জানা গেলনা। এছাড়াও এপ্রিল মাসে আধুনিক গানের নিয়মিত সিডিউল ছিলনা অজানা কারণে। তালি জোড়া দিয়ে ধার করা অনুষ্ঠান দিয়ে ঈদ অনুষ্ঠানমালা সাজানোর কোনো কৃতিত্ব নেই। এমনটি অভিযোগ সংস্কৃতি কর্মীদের। প্রতিটি অনুষ্ঠানে একজনকে গ্রন্থনা করার দায়িত্ব দেয়া হলে, একজন করে উপস্থাপক উপস্থাপিকা যুক্ত করলে, মৌলিক গানের অনুষ্ঠানে গীতিকার ও সুরকার এবং সংগীত পরিচালনা যুক্ত করলে প্রচার প্রচারনা যেমন বেশী হতো তেমনি অনুষ্ঠানের মানও বৃদ্ধি পেতো। চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ টিভিতে ইয়াদ আহমেদ ছাড়া প্রযোজক কি আর নেই? ঈদের সব অনুষ্ঠান তাহলে তাকে দিয়ে করানো হবে কেন? প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোমানা শারমিন এর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ইয়াদ আহমেদ এর বিরুদ্ধে নারী ও অর্থ কেলেংকারী সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সদ্য বদলী হওয়া বিতর্কিত জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য সিন্ডিকেট তালিকায় অপকর্মের হোতা হিসেবে ইয়াদ আহমেদ বেশ সমালোচিত। ১৪০ জনেরও বেশি উপস্থাপক উপস্থাপিকা থাকলেও তাদের ডাকা হয়নি। ঘুরে ফিরে কয়েকজন মুখকেই প্রায় দেখা যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালায়। এছাড়াও ঘোষিকারা অভিযোগ করে বলেন, তাদেরকে উপস্থাপনায় রাখা হয়না। ঘোষিকাদেরকে দিয়ে অনুষ্ঠান করালে অনুষ্ঠানের মান বৃদ্ধি পায়। কেননা, উচ্চারন, ড্রেসাপ, গেট আপ এবং সময় সবকিছুর বিষয়ে তারা যথেষ্ট সচেতন। এছাড়াও এই কেন্দ্রে সুশীল সমাজের অনেককে গ্রন্থনাকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলেও তাদেরকে কাজ কি? তালিকাভুক্তির কাগজ নিয়ে ঘরে বসে থাকার জন্যই কি গ্রন্থনাকারী হয়েছে? কোনো অনুষ্ঠানে তাদের যুক্ত করা হয় না এর যুক্তি কতটুকু।

নাট্যকার অভিনেতা মহসিন চৌধুরী বলেন, ঈদ উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ চাইলে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নাটক প্রচার করতে পারতো, কিন্তু সেটা করেনি। ঈদ উপলক্ষে নাটক প্রচার করা হলেও সেটির সাউন্ড কোয়ালিটি অডিও ভিডিও মানসম্মত ছিলনা। ঢাকা থেকে শিল্পী এনে অনুষ্ঠান করা হলেও বঞ্চিত হয়েছে চট্টগ্রামের অনেক প্রতিভাবান শিল্পী। চট্টগ্রামে তালিকাভুক্তি হননি, এমন অনেক মেধাবী সুন্দর সুন্দর ছেলে মেয়ে রয়েছে, যারা কিনা স্যাটেলাইট চ্যানেলে নিয়মিত অনুষ্ঠান করছেন। সব মিলিয়ে জোড়া তালি মার্কা ঈদ অনুষ্ঠান দর্শকদের সাথে এক ধরনের প্রতারনা। চট্টগ্রাম মিডিয়া ফোরামের সভাপতি আলী নেওয়াজ বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রে চট্টগ্রামের শিল্পীরাই বঞ্চিত। তাহলে কেনইবা এত আয়োজন।

চট্টগ্রামের একাধিক শিল্পী, অভিনেতা, গীতিকার, সাংবাদিক, গল্পকার, কবি, নাট্যকার, সংস্কৃতিকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, টিভি’র প্রযোজক ও সহকারীরা সবকিছু করলে এই শহরে আমাদের কাজ কি? এই কেন্দ্রে সব শাখায় তাদের তালিকাভুক্ত করে নেওয়া হোক, তাহলে তারাই আয়োজক, তারাই দর্শক হবে।

প্রশ্নবিদ্ধ বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ঈদ অনুষ্ঠানমালা