বাঁশখালী প্রেম বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ হামলা সাংবাদিক,পুলিশসহ, আহত ১৫

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃ এম.আর তাওহীদ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০
  • ৭২৭ Time View

বাঁশখালী প্রেম বাজারে প্রতিবাদ সভায় হামলা সাংবাদিক ও পুলিশসহ আহত ১৫

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলী আশরাফকে গার্ড অব অনার না দেওয়ার দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশে হামলা চালিয়েছে দুবৃত্তরা।

সোমবার ( ০৩ আগস্ট) বিকেলে বাশঁখালী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের ব্যানারে বাশঁখালী উপজেলার পুইছড়ি প্রেম বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এসময় পুলিশ সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, বাশঁখালী থানার ওসি তদন্ত মো কামাল হোসেন, এস আই নাজমুল হোসেন, ডেইলি ট্রাইব্যুনাল পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান তাজুল ইসলাম পলাশ। অন্যদের নাম পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোলভী ছৈয়দের বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা ডা: আলী আশরাফকে গার্ড অব অনার না দেওয়ার প্রতিবাদে প্রেম বাজারে এক প্রতিবাদ সভা ডাকা হয়। সেখানে বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলো। বিকেলে সভা শুরু হলে অতর্কিত হামলা চালায় দুবৃত্তরা। এসময় পুলিশ সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫জন আহত হয়।

জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রাম যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মৌলভী সৈয়দ আহমদের বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা ও বাঁশখালী থানা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির শ্রম সম্পাদক ডা. আলী আশরাফ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন ২৭ জুলাই ২০২০ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন করা হয়। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

গত ২৭ জুলাই ২০২০ইং রাত ১০টার দিকে গণমাধ্যমে ডা. আলী আশরাফ মুক্তিযোদ্ধা নন, থানা আওয়ামী লীগের কমিটির কেউ নন এবং বাঁশখালীতে কোনো মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি উল্লেখ করে মন্তব্য করেন স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। যার কল রেকর্ড ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এমন মন্তব্যের পর বাঁশখালীজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। এসব বিষয় নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের সমালোচনা করায় মৌলভী সৈয়দের ভাইপো ফারুক আব্দুল্লার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করতে নির্দেশ দেন সাংসদ মোস্তাফিজ। এরপর সাংসদের অনুসারী মোরশেদুর রহমান নাদিম বাদি হয়ে ফারুক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মৌলভী সৈয়দের ভাইপো জহির উদ্দিন বাবর বলেন, আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফকে গার্ড অব অনার না দেওয়া, বাঁশখালীতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এমপি সাহেবের কটুক্তির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম। এ সময় এমপির অনুসারীরা অস্ত্র হাতে আমাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে আমিসহ স্থানীয় ১০-১২ জন আহত হই। এমপির নগ্ন এসব রাজনীতির প্রতিবাদ করায় আমার ভাই সাংবাদিক ফারুক আব্দুল্লার বিরুদ্ধে এমপি মোস্তাফিজ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাঁশখালী থানায় মিথ্যা মামলা করিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মৌলভী সৈয়দের পরিবারকে এমপি বাঁশখালী থেকে উৎখাত করতে চায়। আমরা এসব ঘটনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করছি।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় পূর্ব পুইছড়ির নাম করা ডাকাতরা এ হামলায় অংশ নেন। যাদের বিরুদ্ধে খুন, হত্যা, ডাকাতি, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য অভিযোগ আছে। মামলাও আছে ডজন খানেক।

তিনি বলেন, পুলিশের সামনে দা ছুরি রামদা নিয়ে তারা হামলা করে। এসময় আমাদের অনেক কর্মীরা আহত হয়েছেন।

নাম জানাতে অনিশ্চুক ব্যক্তি বলেন, দা ছুরি ছাড়াও কাটা বন্দুকও ছিলো কয়েকজনের কেমরে। তারা বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলে মরহুম আলী আশরাফকে গার্ড অব অনার না দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ সভা চলছিল। এসময় প্রেম বাজারের দক্ষিণ দিক থেকে ৩০/ ৪০ জনের মতো একদল কাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। পাল্টা জবাব দিতে প্রতিবাদকারীরাও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। দুপক্ষের মাঝে প্রায় ঘণ্টা ধরে পাল্ট পাল্টি হামলা চলে। এতে পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরা দিকবেদিক ছুটতে থাকে। এসময় বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category