বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ৪বছর পর সফল সিজার অপারেশন

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ২২৯ Time View

বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ৪ বছর সফল সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে উপজেলার মানুষ সল্প খরচে সরকারি হাসপাতালে গর্ভবতী নারী সিজারিয়ান সুবিধা পেতে যাচ্ছে।

১৬ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে প্রসুতি মায়ের সিজারের মাধ্যমে এ অপারেশন থিয়েটার যাত্রা শুরু করা হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট(গাইনী) ডাঃ স্মিতা মুহুরী এবং মেডিকেল অফিসার ডাঃ কান্তা অধিকারীর তত্ত্বাবধানে এ সিজারিয়ান পরিচালনা করেন । এতে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছিলেন ডাঃ সৌমেন বড়ুয়া।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাজর্ষি নাগ বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি থাকা স্বত্তেও ডাক্তার সঙ্কটের কারণে বহুবছর ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল।
তিনি আরো বলেন, সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেয়া নবজাতক ও শিশু মা দু’জনেই সুস্থ আছেন।

নবজাতকের স্বজনরা সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে সিজার করায় অনেক কম টাকা লেগেছে। এখানে সিজার করাতে না পারলে উচ্চতর হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বিশাল অংকের টাকা খরচ হতো। এ সুবিধা চালু করায় এলাকার বহু মানুষ উপকৃত হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুনিয়র কনসালটেন্ট(এনেসথেসিয়া) পদটি প্রায় ০৪ বছর ধরে শুন্য থাকার কারনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জুনিয়র কনসালটেন্ট(এনেসথেসিয়া) ডাঃ সৌমেন বড়ুয়া সপ্তাহে এক দিন অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনেসথেসিয়া কার্যক্রম পরিচালনা করার ব্যবস্থা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট(গাইনী) ডাঃ স্মিতা মুহুরী এবং মেডিকেল অফিসার ডাঃ কান্তা অধিকারী সিজারিয়ান কার্যক্রম পরিচালনা করেন । সিজারিয়ান অপারেশনে সহযোগী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স তন্দ্রা দেওয়ানজী, মিডওয়াইফ শাহানাজ পারভীন এবং ওটি এটেনডেন্ট মোঃ সালাউদ্দিন। এই সময় উপস্থিত থেকে সিজারিয়ান কার্যক্রমটি মনিটরিং করেন ডাঃ রাজর্ষি নাগ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বাসভবন নির্মানের জন্য সংশোধিত ডিজাইন ও দরপত্রের অনুমোদন পেলে করা হবে নতুন ভবন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গৃহীত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বাসভবন নির্মান প্রকল্পে নতুন ভবন নির্মান এর ক্ষেত্রে ভবনের Soil Test করে ফাউন্ডেশন এলজিইডি’র ডিজাইন ইউনিট হতে যাচাইপূর্বক প্রাক্কলিত মূল্য স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে পূর্বানুমোদন নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, বোয়ালখালী ইতিমধ্যেই Soil Test, Topo Survey সম্পন্ন করায় এলজিইডি ডিজাইন ইউনিট হতে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে ডিজাইন পাওয়া গিয়েছে। পরবর্তীতে সংশোধিত ডিজাইন অনুমোদিত হয়েছে ৩০ নভেম্বর ২০২০ তারিখ। সর্বশেষ অনুমোদিত ডিজাইন অনুসারে প্রস্তুত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বাসভবন নির্মান প্রকল্পের কাজ চলমান।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপজেলাসমূহের জন্য উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ থেকে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনাদি নির্মান/পুনঃনির্মাণ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ উপখাতে রক্ষিত আছে বলেও জানা যায়।

এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার পর দেশের সার্বিক অবস্থার কারণে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় ওই বিলের টাকা তুলে সোনালী ব্যাংক বোয়ালখালী শাখার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের যৌথ হিসাব নম্বরে জমা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী কার্যক্রম প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বরাদ্দ এসেছে। বরাদ্দ দিয়ে তারা বলে, Soil Test দুই ভবনের জন্য যেকোনো একটি সিঙ্গেল ভবনের জন্য অর্থবছরে ৪০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা। দেওয়ার পরে বরাদ্দপত্রে উপজেলা পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দায়ন হচ্ছে। জিডিও হচ্ছে জিডিও মানে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদ। উপজেলা পরিষদ মানে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সেখানে হচ্ছে ৪০ লাখ টাকা দুই ভবনের জন্য সেখানে বলা আছে যে, Soil Test হবে, ডিজাইন হবে, এসিল্যাড হবে, ডিজাইন অনুমোদন হবে তারপর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। সেক্ষেত্রে এখন যেটা হয়েছে আমাদেরটা বোয়ালখালী উপজেলায় ডিজাইন অনুমোদন হয়ে এসেছে। আমরা ডিজাইন সংশোধন করে পাঠিয়েছি স্থানীয় সরকার অনুমোদন দিলে তারপরে টেন্ডারে যাবে। মিনিস্ট্রি যে টাকা বরাদ্দ এসেছে তা উপজেলা পরিষদের নামে রয়েছে। উপজেলা পরিষদের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার নামে সেই টাকা ফিল খাতে রক্ষিত আছে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ভবনের ৪০ লাখ টাকা আমাদের কাছে এসেছে তা যোগসাজোশে একটি সরকারি একাউন্ট করে টাকা জমা রেখেছি। ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ কথাটি সত্য নয়। ইউএনও ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়েছে সেটা ঠিক। এটা নিয়ে নিউজ হয়েছে। কিন্তু টাকা আত্মসাৎ এর কথা যেটা বলা হয়েছে সেই টাকা জমা আছে। soil test ও ডিজাইন পাঠানো হয়েছে অনুমোদন না আসলে তো টেন্ডার করা যাচ্ছে না। সারা বছর করোনা ভাইরাসের জন্য কিছু করা যাচ্ছে না বলে আমরা টাকা গুলো সরকারি একাউন্টে ঢুকিয়ে রেখেছি। আর কন্ট্রাক্টর ছাড়া অনুমোদন করার সুযোগ নেই। যে কন্ট্রাক্টর কাজ করবে তাকে পেমেন্ট করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নাই।

এ সম্পর্কে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (সমন্বয় ও কাউন্সিল) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের নতুন বাসভবন নির্মাণের জন্য যদি পুরাতন বাসভবন থাকে তাহলে সেটা পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং অনুমোদন সাপেক্ষে আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পুরাতনটি যদি জেলা কমিটিতে পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় যদি অনুমোদিত হয় তখন আমরা নতুনভাবে নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিয়ে থাকি। সাধারণত আমরা প্রতিবছর অল্প অল্প করে টাকা দেই। যাতে একবারে টাকাটা দেই না কারণ এটার এস্টিমেটেড ফস্ট এ্যারাউন্ড ১ কোটি ৩৭ থেকে ৫৩/৫৫ পর্যন্ত ভেরি করে। এটা সয়ল কন্ডিশনের উপর নির্ভর করে। পাইন প্রয়োজন হলে বেশী লাগে আর পাইন না হলে কম লাগে। যেহেতু আমরা একবারে টাকাটা দেই না প্রতিবছর সাধারণত ৪০ লাখ টাকা দেই। দেওয়ার পরে তারা আনুষঙ্গিক কার্যক্রম গ্রহণ করে। বিশেষ করে soil test, estimate এগুলো করতে করতে একটু সময় লাগে। এ কাজটা তো এত সহজে করা যায় না। পরে এটা আমাদের কাছে পাঠায় আমরা এস্টিমেটটা যদি অনুমোদিত হয়। পরে টেন্ডারে যায় টাকাটা খরচ করে। তাহলে প্রথম যে টাকাটা বরাদ্দ দিলাম টাকা তো খরচ করতে পারে না। পরে টাকাটা ভবনের নামে একটা একাউন্ট খুলে ধরেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা উপজেলা চেয়ারম্যানের নতুন বাসভবন নির্মাণ প্রকল্প। সেখানে একাউন্ট খুলে। এই একাউন্টের মালিক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার। মালিক বলতে জিডিও। মানে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা। খরচ করবেন দু’জনের স্বাক্ষরে। সেজন্য ওনাদের দু’জনের স্বাক্ষরে হিসাব খুলে টাকাটা ওখানে ঢুকানো হয়। পরবর্তীতে ঐ যে টেন্ডার হলে পর্যায়ক্রমে খরচ করে। যখন সব টাকা খরচ হয়ে যায় তখন ক্লোজ দেখাতে হয়। এখানে আমরা দেখলাম টাকাটা কেবল উত্তোলন করেছে। এখন এস্টিমেট অনুমোদিত হবে। এখানে অনিয়ম কি? সে তো খরচও করে নাই।
মোর দেন হান্ড্রেড (More then Hundred) উপজেলায় এই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

বোয়ালখালীতে অনুমোদনের অপেক্ষায় নির্বাহী অফিসারের বাসভবন