বোয়ালখালী নদী অংশের ভাঙন পরিদর্শন পানি সম্পদ উপ- মন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রভাস চক্রবর্তী
  • Update Time : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৯০ Time View

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেছেন, কর্ণফুলী নদীর বোয়ালখালী অংশের ভাঙন প্রতিরোধেে সাত কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাধ নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। আগামী বর্ষার আগে এই কাজ শুরু হবে। এটি নির্মাণ হলে ১৫ কিলোমিটার এলাকা ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। তিনি বলেন, চট্রগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১৭ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সেনা বাহিনী এ কাজ বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া চট্টগ্রামর ১৫ উপজেলায় পানি উন্নয়নের বোর্ডের অধীনে নদী খাল ভাঙন প্রতিরোধরোধে প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আজ কণর্ফুলী নদীর বোয়ালখালী অংশের ভাঙন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেন। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোছলেম উদ্দিন আহমেদসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে উপমন্ত্রী বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। সভায় এমপি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বোয়ালখালীর নদী ভাঙন ছাড়াও অচিরেই দৃশ্যমান হবে বহুল জনকাঙ্খিত কালুরঘাট বহুমুখী সেতুর কাজ। স্থানীয় চোধুরীহাটে অনুষ্ঠিত সভা সভাপতিত্বে করেন উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত সাহাদাত হোসেনের সঞ্চানলায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাদা মহিউদ্দিন, মাহফুজুল হায়দার, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, আবদুল কাদের সুজন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন, সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম বাবুল, এস এম দিদারুল আলম, শফিকুল আলম, সাইদুর রহমান খোকা, শফিউল আলম, হাজি ইলিয়াছ জাফর, নুরুল আবছার, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি হাজি আবদুল মান্নান রানা, মিজানুর রহমান সেলিম, ইকবাল হোসেন তালুকদার, সাইদুল আলম, এস এম মহিউদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহানসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকের্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বাসভবন নির্মানের জন্য সংশোধিত ডিজাইন ও দরপত্রের অনুমোদন পেলে করা হবে নতুন ভবন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গৃহীত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বাসভবন নির্মান প্রকল্পে নতুন ভবন নির্মান এর ক্ষেত্রে ভবনের Soil Test করে ফাউন্ডেশন এলজিইডি’র ডিজাইন ইউনিট হতে যাচাইপূর্বক প্রাক্কলিত মূল্য স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে পূর্বানুমোদন নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, বোয়ালখালী ইতিমধ্যেই Soil Test, Topo Survey সম্পন্ন করায় এলজিইডি ডিজাইন ইউনিট হতে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে ডিজাইন পাওয়া গিয়েছে। পরবর্তীতে সংশোধিত ডিজাইন অনুমোদিত হয়েছে ৩০ নভেম্বর ২০২০ তারিখ। সর্বশেষ অনুমোদিত ডিজাইন অনুসারে প্রস্তুত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বাসভবন নির্মান প্রকল্পের কাজ চলমান।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপজেলাসমূহের জন্য উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ থেকে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনাদি নির্মান/পুনঃনির্মাণ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ উপখাতে রক্ষিত আছে বলেও জানা যায়।

এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার পর দেশের সার্বিক অবস্থার কারণে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় ওই বিলের টাকা তুলে সোনালী ব্যাংক বোয়ালখালী শাখার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের যৌথ হিসাব নম্বরে জমা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী কার্যক্রম প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বরাদ্দ এসেছে। বরাদ্দ দিয়ে তারা বলে, Soil Test দুই ভবনের জন্য যেকোনো একটি সিঙ্গেল ভবনের জন্য অর্থবছরে ৪০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা। দেওয়ার পরে বরাদ্দপত্রে উপজেলা পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দায়ন হচ্ছে। জিডিও হচ্ছে জিডিও মানে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদ। উপজেলা পরিষদ মানে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সেখানে হচ্ছে ৪০ লাখ টাকা দুই ভবনের জন্য সেখানে বলা আছে যে, Soil Test হবে, ডিজাইন হবে, এসিল্যাড হবে, ডিজাইন অনুমোদন হবে তারপর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। সেক্ষেত্রে এখন যেটা হয়েছে আমাদেরটা বোয়ালখালী উপজেলায় ডিজাইন অনুমোদন হয়ে এসেছে। আমরা ডিজাইন সংশোধন করে পাঠিয়েছি স্থানীয় সরকার অনুমোদন দিলে তারপরে টেন্ডারে যাবে। মিনিস্ট্রি যে টাকা বরাদ্দ এসেছে তা উপজেলা পরিষদের নামে রয়েছে। উপজেলা পরিষদের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার নামে সেই টাকা ফিল খাতে রক্ষিত আছে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ভবনের ৪০ লাখ টাকা আমাদের কাছে এসেছে তা যোগসাজোশে একটি সরকারি একাউন্ট করে টাকা জমা রেখেছি। ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ কথাটি সত্য নয়। ইউএনও ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়েছে সেটা ঠিক। এটা নিয়ে নিউজ হয়েছে। কিন্তু টাকা আত্মসাৎ এর কথা যেটা বলা হয়েছে সেই টাকা জমা আছে। soil test ও ডিজাইন পাঠানো হয়েছে অনুমোদন না আসলে তো টেন্ডার করা যাচ্ছে না। সারা বছর করোনা ভাইরাসের জন্য কিছু করা যাচ্ছে না বলে আমরা টাকা গুলো সরকারি একাউন্টে ঢুকিয়ে রেখেছি। আর কন্ট্রাক্টর ছাড়া অনুমোদন করার সুযোগ নেই। যে কন্ট্রাক্টর কাজ করবে তাকে পেমেন্ট করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নাই।

এ সম্পর্কে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (সমন্বয় ও কাউন্সিল) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের নতুন বাসভবন নির্মাণের জন্য যদি পুরাতন বাসভবন থাকে তাহলে সেটা পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং অনুমোদন সাপেক্ষে আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পুরাতনটি যদি জেলা কমিটিতে পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় যদি অনুমোদিত হয় তখন আমরা নতুনভাবে নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিয়ে থাকি। সাধারণত আমরা প্রতিবছর অল্প অল্প করে টাকা দেই। যাতে একবারে টাকাটা দেই না কারণ এটার এস্টিমেটেড ফস্ট এ্যারাউন্ড ১ কোটি ৩৭ থেকে ৫৩/৫৫ পর্যন্ত ভেরি করে। এটা সয়ল কন্ডিশনের উপর নির্ভর করে। পাইন প্রয়োজন হলে বেশী লাগে আর পাইন না হলে কম লাগে। যেহেতু আমরা একবারে টাকাটা দেই না প্রতিবছর সাধারণত ৪০ লাখ টাকা দেই। দেওয়ার পরে তারা আনুষঙ্গিক কার্যক্রম গ্রহণ করে। বিশেষ করে soil test, estimate এগুলো করতে করতে একটু সময় লাগে। এ কাজটা তো এত সহজে করা যায় না। পরে এটা আমাদের কাছে পাঠায় আমরা এস্টিমেটটা যদি অনুমোদিত হয়। পরে টেন্ডারে যায় টাকাটা খরচ করে। তাহলে প্রথম যে টাকাটা বরাদ্দ দিলাম টাকা তো খরচ করতে পারে না। পরে টাকাটা ভবনের নামে একটা একাউন্ট খুলে ধরেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা উপজেলা চেয়ারম্যানের নতুন বাসভবন নির্মাণ প্রকল্প। সেখানে একাউন্ট খুলে। এই একাউন্টের মালিক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার। মালিক বলতে জিডিও। মানে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা। খরচ করবেন দু’জনের স্বাক্ষরে। সেজন্য ওনাদের দু’জনের স্বাক্ষরে হিসাব খুলে টাকাটা ওখানে ঢুকানো হয়। পরবর্তীতে ঐ যে টেন্ডার হলে পর্যায়ক্রমে খরচ করে। যখন সব টাকা খরচ হয়ে যায় তখন ক্লোজ দেখাতে হয়। এখানে আমরা দেখলাম টাকাটা কেবল উত্তোলন করেছে। এখন এস্টিমেট অনুমোদিত হবে। এখানে অনিয়ম কি? সে তো খরচও করে নাই।
মোর দেন হান্ড্রেড (More then Hundred) উপজেলায় এই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

বোয়ালখালীতে অনুমোদনের অপেক্ষায় নির্বাহী অফিসারের বাসভবন