বোয়ালখালীর ইউএনও বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয় বললেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়

সাংবাদিক এম আর তাওহীদ
  • Update Time : বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১২৭ Time View

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) আছিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে বাসভবন নির্মাণ প্রকল্পের ৮০ লাখ টাকা তুলে নেওয়া সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা পায়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

২৩ ডিসেম্বর বুধবার সকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (কাউন্সিল ও সমনয়) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রচার হয়। দৃষ্টিগোচরে আসায় বিষয়টি খতিয়ে দেখি। কিন্তু বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনও সত্যতা পাইনি। ওই ৮০ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংকের যৌথ হিসেবেই জমা আছে।’

এর আগে ওই দৈনিকটির অনলাইন ভার্সনে ‘নিজ ভবন নির্মাণের ৮০ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন বোয়ালখালীর ইউএনও আছিয়া খাতুন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এরপর সংবাদ উপস্থাপনার ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণ দুটি পৃথক প্রকল্পের জন্য চলতি বছর জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রকল্প দুটির কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে গত জুনে প্রকল্পগুলোর জন্য টাকা বরাদ্দের বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে তাকে অবহিত করা হয়। প্রকল্প দুটির প্রাক্কলন (স্টিমেট) তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউএনও’র বাসভবন নির্মাণ প্রকল্প নামে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বোয়ালখালী শাখায় যৌথ হিসাব খুলে (১২০৩৯০২০০০৪৪৭) টাকাগুলো জমা রাখা হয়।

ইউএনও আছিয়া খাতুন বলেন, ‘মোট প্রকল্পব্যয় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কিন্তু মন্ত্রণালয় একসাথে পুরো টাকা ছাড় দেয় না। প্রতি অর্থবছরে একটি প্রকল্পের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে বিষয়টি সমন্বয় করা হয়ে থাকে। বোয়ালখালী উপজেলার আলোচ্য দুটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ৮০ লাখ টাকা তো কারো ব্যক্তিগত একাউন্টে জমা করা হয়নি। ওই টাকা তো ব্যাংকেই জমা আছে। সুতরাং আমাকে জড়িয়ে গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইনে এমন ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার দেখে আমি অবাক হয়েছি। বিষয়টি অনেকটা ‘চিলে কান নিয়ে গেছে’ গল্পের মতোই। এধরনের ডাহা মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকারান্তরে সুস্থ সাংবাদিকতাকেই শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করবে।-বলেন আছিয়া খাতুন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (কাউন্সিল ও সমন্বয়) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার-এর বাসভবন নির্মাণ প্রকল্পের একটি প্রাক্কলন আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ৮০ লাখ টাকা ব্যাংকেই জমা আছে। এ টাকা কারো ব্যক্তিগত একাউন্টে তো জমা হয়নি। কাজেই এখানে অনিয়মের কিছু নেই।’

বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র বাসা নিমাণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পাওয়া ৮০ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংক বোয়ালখালী শাখার যৌথ হিসাবে (১২০৩৯০২০০০৪৪৭) জমা আছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক শামসুর রহমান।

এদিকে, নিয়ম অনুযায়ী টাকা বরাদ্দের পর প্রকল্প দুটির আওতায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশল অফিস কর্তৃক সয়েল টেস্ট ও নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে। সার্ভে সম্পন্ন হওয়ায় এলজিইডি’র ডিজাইন ইউনিট থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর নকশা পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে গত ৩০ নভেম্বর সংশোধিত ডিজাইনটিও অনুমোদিত হয়েছে। সর্বশেষ অনুমোদিত ডিজাইন অনুসারে প্রাক্কলন প্রস্তুত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও আছিয়া খাতুন।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন বোয়ালখালীতে যোগদান করার পর হতে পরিত্যক্ত ভবনে তিন বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। এরমধ্যে পুরাতন বাসভবনটি ভাঙার টেন্ডার হয়েছে।

২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণের জন্য ৪০ লাখ টাকা এবং চলতি ১৭ ফেব্রুয়ারি ইউএনও’র নতুন বাসভবন নির্মাণের জন্য ৪০ লাখ টাকা মোট ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বাসভবন নির্মানের জন্য সংশোধিত ডিজাইন ও দরপত্রের অনুমোদন পেলে করা হবে নতুন ভবন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গৃহীত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বাসভবন নির্মান প্রকল্পে নতুন ভবন নির্মান এর ক্ষেত্রে ভবনের Soil Test করে ফাউন্ডেশন এলজিইডি’র ডিজাইন ইউনিট হতে যাচাইপূর্বক প্রাক্কলিত মূল্য স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে পূর্বানুমোদন নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, বোয়ালখালী ইতিমধ্যেই Soil Test, Topo Survey সম্পন্ন করায় এলজিইডি ডিজাইন ইউনিট হতে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে ডিজাইন পাওয়া গিয়েছে। পরবর্তীতে সংশোধিত ডিজাইন অনুমোদিত হয়েছে ৩০ নভেম্বর ২০২০ তারিখ। সর্বশেষ অনুমোদিত ডিজাইন অনুসারে প্রস্তুত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বাসভবন নির্মান প্রকল্পের কাজ চলমান।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপজেলাসমূহের জন্য উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ থেকে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনাদি নির্মান/পুনঃনির্মাণ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ উপখাতে রক্ষিত আছে বলেও জানা যায়।

এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার পর দেশের সার্বিক অবস্থার কারণে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় ওই বিলের টাকা তুলে সোনালী ব্যাংক বোয়ালখালী শাখার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের যৌথ হিসাব নম্বরে জমা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী কার্যক্রম প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বরাদ্দ এসেছে। বরাদ্দ দিয়ে তারা বলে, Soil Test দুই ভবনের জন্য যেকোনো একটি সিঙ্গেল ভবনের জন্য অর্থবছরে ৪০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা। দেওয়ার পরে বরাদ্দপত্রে উপজেলা পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দায়ন হচ্ছে। জিডিও হচ্ছে জিডিও মানে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদ। উপজেলা পরিষদ মানে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সেখানে হচ্ছে ৪০ লাখ টাকা দুই ভবনের জন্য সেখানে বলা আছে যে, Soil Test হবে, ডিজাইন হবে, এসিল্যাড হবে, ডিজাইন অনুমোদন হবে তারপর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। সেক্ষেত্রে এখন যেটা হয়েছে আমাদেরটা বোয়ালখালী উপজেলায় ডিজাইন অনুমোদন হয়ে এসেছে। আমরা ডিজাইন সংশোধন করে পাঠিয়েছি স্থানীয় সরকার অনুমোদন দিলে তারপরে টেন্ডারে যাবে। মিনিস্ট্রি যে টাকা বরাদ্দ এসেছে তা উপজেলা পরিষদের নামে রয়েছে। উপজেলা পরিষদের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার নামে সেই টাকা ফিল খাতে রক্ষিত আছে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ভবনের ৪০ লাখ টাকা আমাদের কাছে এসেছে তা যোগসাজোশে একটি সরকারি একাউন্ট করে টাকা জমা রেখেছি। ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ কথাটি সত্য নয়। ইউএনও ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়েছে সেটা ঠিক। এটা নিয়ে নিউজ হয়েছে। কিন্তু টাকা আত্মসাৎ এর কথা যেটা বলা হয়েছে সেই টাকা জমা আছে। soil test ও ডিজাইন পাঠানো হয়েছে অনুমোদন না আসলে তো টেন্ডার করা যাচ্ছে না। সারা বছর করোনা ভাইরাসের জন্য কিছু করা যাচ্ছে না বলে আমরা টাকা গুলো সরকারি একাউন্টে ঢুকিয়ে রেখেছি। আর কন্ট্রাক্টর ছাড়া অনুমোদন করার সুযোগ নেই। যে কন্ট্রাক্টর কাজ করবে তাকে পেমেন্ট করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নাই।

এ সম্পর্কে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (সমন্বয় ও কাউন্সিল) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের নতুন বাসভবন নির্মাণের জন্য যদি পুরাতন বাসভবন থাকে তাহলে সেটা পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং অনুমোদন সাপেক্ষে আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পুরাতনটি যদি জেলা কমিটিতে পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় যদি অনুমোদিত হয় তখন আমরা নতুনভাবে নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিয়ে থাকি। সাধারণত আমরা প্রতিবছর অল্প অল্প করে টাকা দেই। যাতে একবারে টাকাটা দেই না কারণ এটার এস্টিমেটেড ফস্ট এ্যারাউন্ড ১ কোটি ৩৭ থেকে ৫৩/৫৫ পর্যন্ত ভেরি করে। এটা সয়ল কন্ডিশনের উপর নির্ভর করে। পাইন প্রয়োজন হলে বেশী লাগে আর পাইন না হলে কম লাগে। যেহেতু আমরা একবারে টাকাটা দেই না প্রতিবছর সাধারণত ৪০ লাখ টাকা দেই। দেওয়ার পরে তারা আনুষঙ্গিক কার্যক্রম গ্রহণ করে। বিশেষ করে soil test, estimate এগুলো করতে করতে একটু সময় লাগে। এ কাজটা তো এত সহজে করা যায় না। পরে এটা আমাদের কাছে পাঠায় আমরা এস্টিমেটটা যদি অনুমোদিত হয়। পরে টেন্ডারে যায় টাকাটা খরচ করে। তাহলে প্রথম যে টাকাটা বরাদ্দ দিলাম টাকা তো খরচ করতে পারে না। পরে টাকাটা ভবনের নামে একটা একাউন্ট খুলে ধরেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা উপজেলা চেয়ারম্যানের নতুন বাসভবন নির্মাণ প্রকল্প। সেখানে একাউন্ট খুলে। এই একাউন্টের মালিক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার। মালিক বলতে জিডিও। মানে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা। খরচ করবেন দু’জনের স্বাক্ষরে। সেজন্য ওনাদের দু’জনের স্বাক্ষরে হিসাব খুলে টাকাটা ওখানে ঢুকানো হয়। পরবর্তীতে ঐ যে টেন্ডার হলে পর্যায়ক্রমে খরচ করে। যখন সব টাকা খরচ হয়ে যায় তখন ক্লোজ দেখাতে হয়। এখানে আমরা দেখলাম টাকাটা কেবল উত্তোলন করেছে। এখন এস্টিমেট অনুমোদিত হবে। এখানে অনিয়ম কি? সে তো খরচও করে নাই।
মোর দেন হান্ড্রেড (More then Hundred) উপজেলায় এই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

বোয়ালখালীতে অনুমোদনের অপেক্ষায় নির্বাহী অফিসারের বাসভবন